অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
বি.কম. (অনার্স), এম.কম. (হিসাব বিজ্ঞান),
এম. কম. (অর্থ বিজ্ঞান), বি.এড, এম.এড, পিএইচডি, কোয়ান্টাম মাস্টার্স।
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি.কম (অনার্স), এম.কম. (হিসাব বিজ্ঞান), এম. কম. (অর্থ বিজ্ঞান), সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে বি.এড. এবং এম.এড. ডিগ্রি লাভ করেন। নট্রামস অনুমোদিত (নিটা) হতে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এবং যোগ ফাউন্ডেশন হতে গুরুজী শহীদ আল বোখারী কর্তৃক ই.এস.পি. গ্রাজুয়েশন  ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে রিসার্স ইন টিচার্স ট্রেনিং এডুকেশন (আইএপি-ইউকে)-এ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ভার্জিনিয়া থেকে “ইউরোপীয় ইউনিয়নের নয়া কৌশল ও মধ্য এশিয়ার উপর এর প্রভাব-
একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ” বিষয়ে তিনি পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, বাল্যকাল থেকেই তিনি গড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় এবং এখান থেকেই সাফল্যের সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়া সম্পন্ন করেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম থেকেই সাফল্যের সাথে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
দীর্ঘ ১৬ বছর ছাত্র থাকাকালীন সময়ে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ মেরিট একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে তিনি পাঠদান করতেন। সে সময়ে তাঁর পাঠদানের সুনাম চট্টগ্রাম এবং এর বাইরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন অগণিত শিক্ষার্থী তাঁর কাছে পড়তে আসতো অথচ দাবি কিংবা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কখনো তিনি কোন শিক্ষার্থী থেকে টাকা আদায় করেন নি। এমন কি, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি বেতন বকেয়ার অভাবে কোন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করতে পারে নি কিংবা পরীক্ষা দিতে পারে নি-এমন কোন নজির নেই। বস্তুত, শিক্ষা ও মানুষকে ভালোবেসেই তিনি তাঁর আদর্শ শিক্ষা বিস্তরণের কাজ শুরু করেছিলেন।  
শিক্ষা-দীক্ষায় ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রাম তখন অনেক বেশি পিছিয়ে ছিল এবং বাকলিয়া ছিল অত্যন্ত পশ্চাদপদ একটি এলাকা। পুরো চট্টগ্রামেই তখন কয়েকটি মাত্র সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল না। এর ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশ কোথাও ঠাঁই না পেয়ে অসময়ে লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতো। এমনই এক পরিস্থিতিতে বাকলিয়া তথা চট্টগ্রামে শিক্ষার উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং চট্টগ্রামের শিক্ষার কাক্সিক্ষত মানোন্নয়নের জন্য, সর্বোপরি, জাতীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে যথার্থ অবদান রাখার জন্য জাতীয় শিক্ষানীতির শ্লোগান ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালে প্রি নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্লাসনির্ভর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা চট্টগ্রামের অন্যতম সাড়া জাগানো মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুধীজনদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত আছেন এবং বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের চকবাজার ও চান্দগাঁও ক্যাম্পাস নামে আধুনিক শিক্ষার উপযুক্ত দুটো ক্যাম্পাস চালু রয়েছে যেখানে রয়েছে প্রচুর শিক্ষার্থী। বর্তমানে মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত একটি জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একই সাথে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সি ডি এ এভিনিঊতে (বহদ্দারহাট জামে মসজিদের বিপরীতে) ক্লাসনির্ভর শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষায় মানসম্পন্ন মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ নামের আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি এবং এটিও সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত। এছাড়া, মেরন সান কলেজ ও মেরিট বাংলাদেশ কলেজ নামে দুটো রাজনীতিমুক্ত ও উন্নত হোস্টেল সুবিধাযুক্ত ক্লাসনির্ভর কলেজও তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এবং উভয় কলেজ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। চট্টগ্রামের একমাত্র বেসরকারি বি পি এড কলেজ চিটাগং ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় ক্ষেত্রে তিনি দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন, কেননা, চট্টগ্রামে বর্তমানে দু হাজার বিপিএড শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও, সৈকত নগরী কক্সবাজারে তিনি স্থাপন করতে যাচ্ছেন একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স যার ছায়ায় গড়ে তোলা হবে স্কুল, কলেজ, বি পি এড কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠারও দুয়েক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৬-৯৭ এর দিকে ছাত্রজীবন চলাকালেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উপকরণ লাইব্রেরি এন্ড স্টেশনারিজ। উক্ত লাইব্রেরি থেকে উপার্জিত টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি গরিব অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। 
তাঁর পিতা মরহুম হযরত মৌলানা হাছন শরীফ (রহঃ) কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত পেকুয়ার (তৎকালীন চকরিয়া) বারবাকিয়ায় (বর্তমানে টইটং) ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং মেধাবী। বাঁশখালীর পুইছড়ি মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তিনি সেখানকার অত্যন্ত জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক সাধক বড়ো হুজুর ও ছোট হুজুরের [ এলাহি বকস (রহঃ) ] সান্নিধ্য পান এবং বিশেষ করে ছোট হুজুর [এলাহি বকস (রহঃ)] তাঁর অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতা লক্ষ্য করে তাঁকে কলকাতার দেওবন্দ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে যেতে পরামর্শ দেন। ছোট হুজুরের উপদেশমতো দেওবন্দ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করার পর থেকে সেখানে তিনি উপর্যুপরি প্রথম  স্থান অর্জনের মাধ্যমে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। কলকাতায় অবস্থানকালে কংগ্রেস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ বড়ো মাপের রাজনৈতিক নেতাদের সাহচর্যে থেকে তিনি রাজনৈতিক দূরর্দশিতা তথা প্রজ্ঞা অর্জন করেন এবং প্রথম দিকে মুসলিম লীগ এবং পরবর্তীতে কংগ্রেসে যোগ দেন। অধ্যয়ন শেষে দেশে ফিরে তিনি ছোট হুজুরের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তাঁর উপদেশ অনুসারে শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগপূর্বক এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে  গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত টইটং জামিউল উলুম মাদ্রাসায় সুপার (অধ্যক্ষ) হিসেবে দায়িত্ব পালনপূর্বক সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নে সুদীর্ঘ ৩৩ বছর যাবত কাজ করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। এছাড়াও, তিনি তাঁর জন্মস্থান বারবাকিয়ায় (বর্তমান টইটং) বনকানন এশায়াতুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং টইটং উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভূমিকা রাখেন। ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কুসংস্কারের মূলোৎপাটনেও তিনি নিরলস ভূমিকা পালন করে গেছেন। গরিব-দুঃখীদের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে হেডম্যান থাকাকালীন তিনি তিন হাজার গরিব-দুঃখী মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, বনায়নের মাধ্যমেও দেশ ও জাতির সেবায় তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রথম দিকে পেকুয়ার বারবাকিয়ার মেম্বার হিসেবে এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আতাউর রহমান খান কায়সারের নেতৃত্বে টৈটং-এ মুক্তিযোদ্ধাদের যে ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছিল, সেখানে রসদ সরবরাহসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা প্রদানপূর্বক চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারিসহ মহান ভাষা আন্দোলনে তাঁর স্বতস্ফূর্ত সমর্থন ছিল এবং বিভিন্ন মিছিল-মিটিং-এও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। হাছন শরীফ (রহঃ) ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সাধক এবং তাফসির, মাসলা-মাসায়েল ও ইসলাামি শিক্ষাদানের জন্য কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর বাইরে সুনাম থাকায় দূর-দূরান্ত থেকেও বহুলোক তাঁর নিকট দীক্ষা নিতে আসতো। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের পশ্চিম বাকলিয়ায় বসতি স্থাপনপূর্বক চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সমাজ সেবাতেও সুনাম অর্জনের মাধ্যমে তিনি সমাদৃত হন। বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, বায়তুল মামুর কবরস্থান ও রসুলবাগ আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালের ১৭ ফেব্র“য়ারি এই মহান কর্মবীর পরলোক গমন করেন এবং বায়তুল মামুর কবরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। মহান শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সেবক মৌলানা হাছন শরীফ (রহঃ) এর কাজ ও আদর্শের ধারাবাহিকতায় তাঁরই  সুযোগ্য সন্তান অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, মৌলানা হাছন শরীফ (রহঃ) যে সময় জন্মস্থান বারবাকিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় তাঁর এলাকা ছিল শিক্ষার আলো থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ছিল এক দুরূহ স্বপ্নের নাম। অথচ মৌলানা হাছন শরীফ (রহঃ) ছিলেন ওই এলাকার শিক্ষা জাগরণের প্রথম অগ্রদূত। সমাজসেবার ক্ষেত্রেও ওই এলাকায় প্রথম পথ নির্দেশনা তিনিই দিয়েছিলেন। ঠিক তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ শিক্ষাদীক্ষায় পশ্চাদপদ চকবাজারের বাকলিয়ায় প্রথম সফল ক্লাসনির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও এর বাইরে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন যেটাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুসরণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও এর বাইরে সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, মেরন সান এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে কেবল শিক্ষার্থীদেরকেই আলোকিত ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয় না, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আলোকিত ও দক্ষ শিক্ষক, এমন কি, প্রশাসকও গড়ে তোলা হয়। বর্তমান চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কিংবা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন অত্র প্রতিষ্ঠানেরই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। এমন কি, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাও অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রশিক্ষিত শিক্ষক। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জগতে একটি অনন্য ও অবিসংবাদিত মডেল। কেবল চট্টগ্রামে শিক্ষা বিপ্লবই নয়, সমাজসেবার ক্ষেত্রেও অসংখ্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকা ও বিপুল সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা মৌলানা হাছন শরীফ (রহঃ) এর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।  এদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এতিমখানা কদম মোবারক এতিম খানা পরিচালনায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্' সাংগঠনিক পরিচয় ও পরিধি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। নগরীর স্বনামধন্য ও সাড়াজাগানো মেরন সান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এই কীর্তিমান ব্যক্তি বহদ্দারহাটের মেরিট বাংলাদেশ কলেজ এবং বি এড কলেজ গেইটে অবস্থিত মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছাত্রী নিবাস -এরও প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এছাড়াও, সার্ক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত ও অধিভুক্ত চিটাগাং ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজ, কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং উচ্চ বিদ্যালয় ও বটতলি শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিভাগীয় সমাজ কল্যাণ ফেডারেশন, পেকুয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন মহানগর কমিটির সভাপতি হিসেবে সফলভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, কক্সবাজার জেলা, মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং মুমু এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও তিনি ইউনেস্কো ক্লাবস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মানবাধিকার ফোরাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি এবং চকরিয়া উপজেলা সমিতির সহসভাপতি হিসেবে সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্। মেরন সান মৌলানা হাছন শরীফ (র.) স্মৃতি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র -এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, কক্সবাজারের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক বাঁকখালী-এর পরিচালক এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম শহর প্রকল্প-৩ এর ট্রেজারার হিসেবে তিনি দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। লায়ন ক্লাব অব চিটাগাং প্রেসিডেন্সি এবং চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের তিনি নির্বাহী সদস্য। এছাড়া, চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং টৈটং উচ্চ বিদ্যালয় ও বটতলি শফিকিয়া দাখিল মাদরাসার দাতা সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ফোরাম এবং হিসাব বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ রোগী কল্যাণ সমিতি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম শহর প্রকল্প ১ ও ৩, পেকুয়া নারীকল্যাণ সংস্থা এবং জাতীয় যক্ষ্মা হাসপাতাল -এরও তিনি আজীবন সদস্য। এছাড়াও, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও ইসলামাবাদ টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর তিনি সদস্য, মেঘলা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাকলিয়ার একতা সংঘ এবং চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের উপদেষ্টা সভাপতি, মাসিক কক্সবাজার সৈকত-এর প্রধান সম্পাদক, ডেইলি ট্যুরিস্ট-এর চিফ এডিটর, দৈনিক মুক্তবাণী-এর উপদেষ্টা সম্পাদক, সার্ক মানবাধিকার ফোরাম বাংলাদেশ, পেকুয়া ছাত্র-যুব কল্যাণ পরিষদ, কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, চকরিয়া পেকুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংস্থা, পেকুয়া ছাত্র যুবক ঐক্য পরিষদ এবং বাকলিয়ার অধীতি ক্লাব-এর উপদেষ্টা, প্রত্নতত্ত্ব আলোকচিত্র মিউজিয়াম-এর চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম যৌতুক বিরোধী আন্দোলন-এর উপদেষ্টা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম দক্ষিণ উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্।
বহুমুখী গুণ ও প্রতিভার অধিকারী এই মানব হিতৈষী ব্যক্তি কেবল শিক্ষা ও সমাজ সেবায় ব্যাপৃত থাকেন নি। পার্বত্য জেলার লামা-ফাসিয়াখালীতে মেরিট বাংলাদেশ বনায়ন প্রকল্পের সফল ও দৃষ্টান্তমূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি পরিবেশের উন্নয়নসহ অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিপূর্বক দেশ ও জাতির সেবায় অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য তাঁর বনায়ন প্রকল্প মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও গতিশীলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, নিজের ক্রয়কৃত এলাকায় কিংবা সরকারের লিজকৃত জায়গায় তিনি জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে এ ধরনের কোন পদক্ষেপ কখনো তিনি গ্রহণ করেন নি এবং করেন না। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ পেকুয়া উপজেলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং চকরিয়া ছাত্র কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বস্তুত, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্যেও তিনি নিবেদিত প্রাণ। এসব সংগঠন থেকে আর্থিক বিনিময় পাওয়াতো দূরের কথা, এলাকার উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য গঠিত এসব সংগঠনকে তিনি উদারভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ইউনেস্কো ক্লাবস ফেডারেশন থেকে শিক্ষা ও সমাজ সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মাননা পদক লাভ করেছেন। সাহিত্য চর্চাতেও তিনি সিদ্ধহস্ত এবং চট্টগ্রাম ও এর বাইরেও নিবেদিত প্রাণ সমাজকর্মী, সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা গবেষক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন দেশভ্রমণও করেছেন। অতি সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র উৎসব, বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান এবং প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে পাঁচ দিনের সফরে যোগ দিয়ে এসেছেন তিনি। সাহিত্য চর্চায় সিদ্ধহস্ত এবং শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্র সম্পাদনায় মেরিট প্রকাশন থেকে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন। সম্প্রতি তাঁর প্রকাশিত প্রামাণ্য চিত্রসমৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘ইতিহাস কথা কয়’ দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

0 comments: