কোরআন হাফেজদের সরকারী অনুদান ও সনদ প্রদান করার প্রস্তাব

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেমিনার কক্ষে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র ও জমিয়তুত তালিমীন নববী এর উদ্যোগে ৩১ মে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় হাফেজে কুরআন সংরক্ষণে মুসলিম সমাজের ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনার শিক্ষাবিদ গবেষক অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ্’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে হাফেজে কুরআন সংরক্ষণে মুসলিম সমাজের ভূমিকা শীর্ষক ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক-গবেষক, ছোবহানিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা নিজাম উদ্দিন রশিদী (ম.জি.আ)। চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীনের সঞ্চালনায় এ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি চিন্তাবিদ লেখক গবেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মুছা কলিমুল্লাহ্, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, গবেষক এস.এম সিরাজ-উদ-দৌলা, মেট্টোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রবীন সাংবাদিক ওসমান গণি, বিশিষ্ট সমাজসেবী হাজী আবুল কালাম, আলহাজ্ব নেছার আহমদ খান, সাংবাদিক নুর মুহাম্মদ রানা, সাংবাদিক এ.কে.এম আবু ইউসুফ, সংগঠক স.ম জিয়াউর রহমান, মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, মোস্তফা রেজা, মুহাম্মদ রাসেল, মুহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন, অধ্যাপক দিদারুল আলম, উপাধ্যক্ষ আহমদ নবী প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, মহাগ্রন্থ আল-কোরআন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এই গ্রন্থের মাধ্যমে মানব সভ্যতার সুন্দর জীবন নির্নয় সম্ভব। ইহকাল ও পরকালে মুক্তিলাভ এই গ্রন্থের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে। পবিত্র আল-কোরানুল করিম হেফজকারী হাফেজ সাহেবরা এই গ্রন্থ সংরক্ষণ করেন। মুখস্ত কোরআন শরীফ যারা শরীরে ও মেধা মনে ধারণ করে তাদেরকে হাফেজ সাহেব বলা হয়। আমাদের দেশে মহাগ্রন্থ আল কোরআন হেফজকারী হাফেজদের মূল্যায়ন খুবই কম। এভাবে চলতে থাকলে কোরআনে হাফেজের সংক্ষট দেখা দিবে। তাই আমাদের সরকারে উচিত হেফজ শিক্ষায় শিক্ষিত কোরআনে হাফেজদের সরকারী ভাবে মূল্যায়ন করে সরকারী সনদপত্র প্রদান ও আর্থিক সম্মানি প্রদান করা। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেছেন, শুধুমাত্র রমজান মাসে হাফেজদের তারাবি নামাজ আদায়ের জন্য মূল্যায়ন করা হয়। রমজান মাস চলে গেলে হাফেজগণ আর্থিক সংক্ষটে পরে। এই ভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আসমানি কিতাব মহাগ্রন্থ আল কোরআন যারা হেফজ করেন সেই সমস্ত হাফেজদের রমজান মাস ছাড়াও প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মান জনক ভাবে মূল্যায়ন করার দাবী জানান। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসে তারাবি নামাজের জন্য প্রতিটি মসজিদে দুই এর অধিক ৫-৬ জন করে হাফেজ তারাবির জন্য নিয়োগ করলে দেশের অনেক হাফেজের নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাই এই বিষয়টি সরকারী ভাবে এবং প্রত্যেক মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাদের বিবেচনার জন্য সেমিনার থেকে আহবান জানানো হয়।
Share on Google Plus

0 comments: