বিপ্লবী মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৬৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

গতকাল (২৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে ভারতীয় উপ-মহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের কিংবদন্তি, প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৬৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা এম.এ সালাম বলেছেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে অবিস্মরণীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সাহিত্য, রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবা ক্ষেত্রে তিনি অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তাকে ভুলে যাওয়া মানে ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে ভুলে যাওয়া। ইসলামাবাদীকে স্মরণ করার অর্থ হলো; আজ জাতি তার অতীতকে ভালোবাসতে শুরু করেছে এবং অতীতের সংগ্রাম, দেশনায়ক, মনীষী ও কৃতীদের প্রতি সশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। সমাজসংস্কার, ঐতিহাসিক সত্যের অনুসন্ধানে মুসলমানদের সর্বপ্রকার উন্নতিমূলক প্রচেষ্টা, সংবাদপত্রের সম্পাদনা ও পরিচালনায় এবং আজাদীর সংগ্রামে তার নেতৃত্ব, ত্যাগ, নিরলস কর্তব্যপরায়ণতার কথা এ জাতি কোনো দিন ভুলতে পারবে না। নিজ মত ও আদর্শের প্রতি ছিল ইসলামাবাদীর অগাধ বিশ্বাস এবং অনুরাগ। শত বিপদ-আপদের মধ্যেও তিনি মত ও আদর্শকে বিসর্জন দেননি। এ জন্য তিনি অকাতরে যেকোনো দুঃখ-কষ্ট বরণ করে নিতে পারতেন। তিনি আরো বলেন, গর্বিত এই মনির্ষীর স্বপ্নের জাতীয় আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রাম বাসীকে একটি উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। তিনি দেয়াং পাহাড়ে জাতীয় আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের জন্য সর্বোত্তক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মাওলানা ইসলামাবাদী আলেম ছিলেন; কিন্তু অন্ধবিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি যুক্তিবাদী, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পপাতী। তিনি ছিলেন সমাজসেবক ও সমাজের কর্মী। নানা অর্থকষ্টের মধ্যেও তিনি সাহিত্যসাধনা ও সমাজসেবা করে গিয়েছেন। তাঁর শেষ কাজ ছিল চট্টগ্রামে একটি এতিমখানা স্থাপন যেটি বর্তমানে কদম মোবারক মুসলিম এতিম খানা নামে পরিচিত। তিনি মাওলানা ইসলামাবাদীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সর্ব মহলের সহযোগিতা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান। চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের উপদেষ্ঠা প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাসুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত সভার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সূফীতাত্ত্বীক আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইকবাল। মুখ্য আলোচক ছিলেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবন-কর্মের উপর গবেষণা প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ইতিহাস গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবি আসিফ ইকবালের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মুজিবুল হক, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রাব্বান, সংবর্ধিয় অথিতি ও বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডা. এম. এ তাহের জামান, কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্, আওয়ামীলীগনেতা দীপঙ্কর চৌধুরী কাজল, কবি অধ্যাপক কমর উদ্দীন আহমদ, ডিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান দিদারুল হক, ইসলামী ফ্রন্ট তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক লেখক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, লে: কর্ণেল (অব.) রফিকুর রহমান ভূইয়া, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমদ শফি, ওয়াকিল আহমদ সিকদার, মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ সৈয়্যদ, মুক্তিযোদ্ধা কিরণ লাল আচার্য, চকবাজার থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অমর দত্ত, মহানগর উত্তর ইসলামী ফ্রন্টের সদস্য সচিব শফিউল আলম শফি, মানবাধিকারের বিশেষ প্রতিনিধি আমিনুল হক বাবু, হিজরী নববর্ষ উদযাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল হোসাইন, মোস্তফা আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নুর হোসাইন, আসিফ ইকবাল, সংগঠক সজল দাশ, মহানগর ছাত্রলীগনেতা বোরহান উদ্দিন গিফারী, মুহাম্মদ শফিকুল আলম, হাফিজুর রহমান, নোমান উল্লাহ্ বাহার, আলীউর রহমান, মহসিন চৌধুরী, মো. শহিদুল্লাহ, মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, আবুল কালাম, ডা. ফাতেমা আক্তার রুমা, ডা. আর.কে রুবেল, আজিম উদ্দিন, ইমরান সোহেল প্রমুখ। সভায় চিকিৎসা সেবা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ধারে ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া ও চট্টগ্রামে আধুনিক জেনুইন ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করায় ডা. এম.এ তাহের জামানকে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী স্মারক সম্মান ২০১৫ প্রদান করা হয়।
Share on Google Plus

0 comments: